ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ || ৭ আশ্বিন ১৪২৮
Biz Barta :: বিজ বার্তা
Place your advertisement here

টাকা ছাপানো আসলে কি?

বিজবার্তা রিপোর্ট :

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২০  


চাহিদা যখন তীব্র হয়, কিন্তু সেই তুলনায় অর্থের যোগান কম থাকে; তখনই টাকা ছাপিয়ে ভারসাম্য তৈরী করে সরকার। তবে, টাকা ছাপানো অর্থ শুধু কাগজে নোটের সরবরাহ বাড়ানোই নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের যে চারটি একাউন্ট আছে, সেখান থেকে অর্থ নেয়াকেও টাকা ছাপানো বলে। করোনা সংকট সামাল দিতে টাকা ছাপানোর পরামর্শ এসেছে।

 

নানা সময়ে দুই টাকা, পাঁচ টাকাসহ বিভিন্ন মানের কয়েন ছাপিয়ে বাজারে সরবরাহ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের চারটি একাউন্ট আছে। সেই একাউন্টগুলো থেকে অর্থ তুলে বাজারে ছাড়াকেও টাকা ছাপানো বলা হয়। একাউন্টগুলো হচ্ছে, ওভার ড্রাফট, ব্লক ওভার ড্রাফস, ওয়েজ এন্ড মিনজ বা ডব্লিউএএম এবং ট্রেজারি বন্ড। সংকটের সময় একাউন্টগুলো থেকে দ্রুত অর্থ তুলে মানুষের চাহিদা পূরণ করা হয়। যা টাকা ছাপানো নামে পরিচিত।

 

তবে, টাকা ছাপানোর বিপদ অন্য জায়গায়। বাজারে যদি পণ্য সরবরাহ সীমিত থাকে এবং মানুষের হাতে অর্থ বেশি চলে যায় তখন মূল্যস্ফীতি হয়। টাকা থাকলেও পণ্য পাওয়া যায় না। পৃথিবীর অনেক দেশেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে টাকা থাকা সত্ত্বেও পণ্য পাওয়া যায় না। তবে, করোনার এই দুর্যোগে বাংলাদেশের টাকা ছাপিয়ে দরিদ্র্য মানুষদের কাছে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে ধুম্রজাল তৈরী হয়েছে।

 

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, টাকা ছাপিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে দরিদ্র্য কোটি মানুষের হাতে অর্থ তুলে দেয়া দরকার। যেহেতু এখন সরকারের হাতে টাকার তীব্র সংকট তাই এটাই উত্তম পন্থা। তিনি বলেন, বাজারে এখন পর্যাপ্ত পণ্য রয়েছে, তাই টাকা মানুষের হাতে গেলে পণ্যের সংকট হবে না। মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিরও শঙ্কা নেই। পরে বিকল্প উৎস থেকে অর্থের সংস্থান হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিলে হবে।

 

কিন্তু এই মুহুর্তে টাকা না ছাপানোর পক্ষে গবেষণা সংস্থা, সিপিডি। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, টাকা ছাপানোর এখনো সময় আসেনি। এখন সরবরাহের ক্ষেত্রে ডিপ্রেশন রয়েছে, মানুষের চাহিদা নেই। এ সময় মানুষের হাতে টাকা দিলে মূল্যস্ফীতি হবে। আমরা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে সাহায্য আনাই উত্তম। সুতরাং, টাকা ছাপানোর আগে অনেক চিন্তাভাবনা করা দরকার।

 

টাকা ছাপানোকে শেষ অস্ত্র হিসেবে দেখছেন গবেষণা সংস্থা সানেমর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। বলেন, সরকারের যে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় খরচ আছে, বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাজেটে যে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো আছে সেগুলোকে অবিলম্বে স্থগিত বা বাতিল করা দরকার। দ্বিতীয়ত আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণ নেয়া যায়। তৃতীয় উপায় হিসেবে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করার পরামর্শ দিয়েছেন। শেষ উপায় হিসেবে টাকা ছাপানোর পক্ষে এই অর্থনীতিবিদ।


Place your advertisement here
Place your advertisement here
Place your advertisement here
এই বিভাগের আরো খবর
Place your advertisement here