ঢাকা, ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ || ২১ মাঘ ১৪৩২
Biz Barta :: বিজ বার্তা
Place your advertisement here

বস্ত্রখাত নিয়ে বৈঠকে হট্টগোল; হয়নি কূলকিনারা

বিজবার্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  


ভারত থেকে স্পিনিং বা সুতা আমদানি নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে কোন সমাধানে পৌছানো যায়নি। সচিবালয়ে সব পক্ষের সঙ্গে ঘন্টাব্যাপী বৈঠকের পরও হয়নি কোন কূলকিনারা। সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছে কমিটি। ১০ দিনের মধ্যে দিতে হবে রিপোর্ট।

 

সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে বিটিএমএ, বিকেএমইএ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করে অর্থ মন্ত্রনালয়। অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

 

এছাড়া ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, সাবেক সহ-সভাপতি সালেউদ জামান খান, সাবেক পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার। উপস্থিত হন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, এফবিসিসিআইর প্রশাসক আবদুর রহিম খান প্রমূখ।

 

এক ঘন্টার বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক পর্যায়ে হট্টগোল তৈরী হয়। নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে কয়েকজন নিজের নিয়ন্ত্রণ হারান।

 

সভায় বিটিএমএর পক্ষ থেকে বলা হয়- ভারত থেকে অবাধে সুতা আমদানির কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশিয় স্পিনিং মিল। বন্ধ হয়েছে প্রায় ৬০টি কারখানা। সভায়, বস্ত্রখাতের দুর্দশা তুলে ধরে বলা হয়, বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি বন্ধ না হলে সুতার উৎপাদন টিকিয়ে রাখা যাবে না।

 

বৈঠকে বন্ড সুবিধার আওতায় ভারত থেকে ১০-৩০ কাউন্ডের ব্লেন্ডেড সুতা আমদানি নিষিদ্ধ চায় বিটিএমএ। বলা হয়, ভারতে ৩০ কাউন্টের এককেজি সুতা উৎপাদন করতে ব্যয় হয় ২ দশমিক ৯৩ ডলার। দেশে উৎপাদিত এই সুতার দাম ২ দশমিক ৮৫ ডলার।

 

সুতা শিল্পকে সুরক্ষায় ওই দেশের উদ্যোক্তাদের নানাবিধ সুবিধা দিয়েছে ভারত সরকার। এতে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা পেয়ে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমিয়ে রপ্তানি করছে পাশ্ববর্তি দেশ। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দেশিয় শিল্প।

 

তবে, বিকেএমইএর পক্ষ থেকে কম দামে সুতার উৎস টিকিয়ে রাখার দাবি জানানো হয়। বলা হয়, ভারত থেকে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বন্ধ করলে দিতে হবে প্রণোদনা। তা না হলে বেড়ে যাবে উৎপাদন ব্যয়। তাদের দাবি, এতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাতে হবে।  

 

আলোচকরা বলেন, স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় সুতায় বন্ড সুবিধা বাতিল করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন। সেই সুপারিশ কার্যকরে এনবিআরে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়। কিন্তু কার্যকর হচ্ছে না সিদ্ধান্ত।

 

বৈঠকে বস্ত্র খাতের জটিলতা নিরসণে অধিকতর পর্যালোচনায় অর্থ মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং মনিটরিং সেলের ডিজি রহিমা বেগমকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে কমিটি। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে ওই কমিটির রিপোর্ট দেবার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। 

 

গেল ২২ জানুয়ারী সংবাদ সম্মেলন ডেকে দেশের সুতা উৎপাদনকারী মিলগুলো রক্ষায় গেল ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন, বিটিএমএ। পরে আলোচনার আশ্বাসে তা প্রত্যাহার করা হয়।

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের আগে বিষয়টির সুরাহা হওয়া নিয়ে তৈরী হয়েছে ধুম্রজাল। 


Place your advertisement here
Place your advertisement here
Place your advertisement here