ঢাকা, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ || ৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
Biz Barta :: বিজ বার্তা
Place your advertisement here

দুই মাসেই ৯০২৮ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি

প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  


বিজবার্তা রিপোর্ট : নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম ‘সঞ্চয়পত্র’। তাই হু হু করে বাড়ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই-তে ৫০৫৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। আর দ্বিতীয় মাসে বিক্রি হয় ৩৯৭৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। প্রথম মাসের তুলনায় দ্বিতীয় মাসে বিক্রি কম হয় ১০৭৮ কোটি টাকা। তবে, দুই মাসে সঞ্চয়পত্রখাত থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯০২৮ কোটি টাকা। তবে, গেল অর্থ বছরে দুই মাস জুলাই ও আগস্টে বিক্রি হয় ৭৭৯৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। একক মাস হিসেবে জুলাইতে বিক্রি হয় ৩৪৯৮ কোটি এবং আগস্টে বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪২৯৭ কোটি টাকা। অর্থ্যাত গেল অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রি বেড়েছে ১২৩৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। তবে, প্রবণতা বলছে অর্থবছরের ছয় মাসেই ছাড়াবে বিক্রি লক্ষ্য। গেল অর্থবছরের বাজেটে ১৯,৬০০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্য ঠিক করা হয়। পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে নতুন লক্ষ্য ধরা হয় ৪৫,০০০ কোটি টাকা। চাহিদার কারণে শেষ পর্যন্ত বিক্রি দাঁড়ায় ৭৫,০০০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সুদ বেশি হওয়ায় সঞ্চয়পত্রে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের বিক্রি প্রবণতায় বলা যায় এবারও বিক্রি লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাবে। সঞ্চয়পত্র খাত থেকে চড়া সুদে ঋণ নেওয়ায় ফলে সরকারের দায় বাড়ছে। বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের সুরক্ষায় সুদের হার বেশি রাখা হলেও কারা মূলত সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা তা যাচাই করা হচ্ছে না। ফলে বেশি মুনাফা লাভের আশায় উচ্চবিত্তরাও কিনছে সঞ্চয়পত্র। চলতি বাজেটে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ৬০,৩৫২ কোটি টাকা। তার মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণের লক্ষ্য ধরা হয় ২৮,২০৩ টাকা। বর্তমানে ব্যাংক আমানতে সুদের হার ৪ থেকে ৬ শতাংশ। অন্যদিকে বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের সুদ হার ১১ থেকে ১২ শতাংশের কাছাকাছি। ২০১৫ সালের মে মাসে সব ধরণের সঞ্চয়পত্রের সুদ গড়ে কমিয়ে আনা হয় ২ শতাংশ। সুদের হার আবার সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে, শেষ পর্যন্ত সেই পদক্ষেপ থেকে সরে আসে অর্থমন্ত্রনালয়। তবে, সঞ্চয়পত্র বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ তৈরী কাজ শুরু করেছে অর্থ বিভাগ। কোন সঞ্চয়পত্রে কতো সুদ : পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ সুদ পাওয়া যায়। এই সঞ্চয়পত্রটি বিক্রি মূল্য ১০ হাজার, ২০ হাজার, ৫০ হাজার, ১ লাখ, ২ লাখ, ৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশন সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এই সঞ্চয়পত্রের বিক্রি মূল্য ৫০ হাজার, ১ লাখ, ৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। দেশের যেকোনও নাগরিক এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। বাজারে ১০, ৫০, ১০০ ও ৫০০ টাকা; ১০০০, ৫০০০, ১০,০০০, ২৫,০০০ ও ৫০,০০০ টাকা এবং ১ লাখ, ৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র পাওয়া যায়। তিন বছর মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ। বিক্রি মূল্য ১ লাখ, ২ লাখ, ৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকা। তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বর্তমানে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ।


Place your advertisement here
Place your advertisement here
Place your advertisement here
Place your advertisement here